আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
.jpeg)
‘যত বই তত প্রাণ’ এই স্লোগানকে বুকে ধরে ২২ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা। টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শেষ দিনে উজ্জ্বল রোদে মেলা প্রাঙ্গণে উপচে পড়া ভিড় জমে, যা প্রবাসী বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগেরই প্রতিফলন।
প্রথম দিন ঢোলের বাদ্য ও সমবেত সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় প্রাক-উদ্বোধন। মহাশ্বেতা দেবী, শামসুদ্দীন আবুল কালাম ও তপন রায়চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্বলন করে তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, গত ৩৫ বছরে বাংলাদেশিরা আমেরিকায় দৃশ্যমান জাতিগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, আগামী ৩৫ বছরে তারা এ দেশের সমাজ-সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠবে।
তাঁকে ‘মুক্তধারা সুকৃতজ্ঞ সম্মাননা’ দেওয়া হয়। এদিন উত্তর আমেরিকায় এই বইমেলার পথিকৃৎ বিশ্বজিত সাহাকে নিয়ে একটি আবেগঘন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় এবং তাঁকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।
দ্বিতীয় দিন সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য ছিল জমজমাট। ‘গদ্যের অন্দরমহল’ শীর্ষক আড্ডায় অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন প্রমুখ। সাদাত হোসাইনের অটোগ্রাফ পেতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এদিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল বিতর্ক প্রতিযোগিতা, যার সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা রোকেয়া হায়দার। ‘প্রবাস জীবন-বাঙালিকে দিয়েছে বাণিজ্যিকতা, কেড়ে নিয়েছে আন্তরিকতা’ শীর্ষক এই বিতর্ক দর্শকদের ভরপুর আনন্দ দেয়। দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিনের ‘সীমার মাঝে অসীম’ একক সংগীতানুষ্ঠান, যা রাত ১১টা পর্যন্ত দর্শককে মাতিয়ে রাখে। তৃতীয় দিনটি ছিল শিশু-কিশোর ও পুরস্কার বিতরণের। চিত্রাঙ্কন ও বাংলা লিখন প্রতিযোগিতায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল উৎসাহব্যঞ্জক।
সন্ধ্যায় ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’ পান ভাষাসৈনিক ও ঔপন্যাসিক ড. আবদুন নূর, সাথে নগদ ৩ হাজার ডলার। শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা পুরস্কার পায় ‘বাতিঘর’। ইমদাদুল হক মিলন দেন ‘মুক্তধারা স্মারক বক্তৃতা’। সমাপনী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সৃজনশীলতা নিয়ে তরুণদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে মুক্তধারার বিশ্বজিত সাহার সঞ্চালনায় জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইনের মুখোমুখি সংলাপ দারুণ সাড়া ফেলে। দিনভর শিশুদের জন্য গল্প লেখার কর্মশালা ও রং-তুলি উৎসব চলে। শেষ বিকেলে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আগামী বছর ৩৬তম মেলা অনুষ্ঠিত হবে ২১ থেকে ২৪ মে, ২০২৭। উল্লেখ্য, রোকেয়া হায়দার দীর্ঘদিন ধরে এই বইমেলার সঙ্গে যুক্ত। তিনি মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং এর আগে ৩৪তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।