NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

জাতিসংঘ সংস্কারের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ:  ইউএন৮০ উদ্যোগে খলিলুর রহমানের নেতৃত্ব কতটা পরিবর্তন আনতে পারে


এএ্ইচএম বজলুর রহমান প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০২:০১ এএম

জাতিসংঘ সংস্কারের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ:  ইউএন৮০ উদ্যোগে খলিলুর রহমানের নেতৃত্ব কতটা পরিবর্তন আনতে পারে

  এ এইচ এম বজলুর রহমান

জাতিসংঘ সংস্কারের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ:  ইউএন৮০ উদ্যোগে খলিলুর রহমানের নেতৃত্ব কতটা পরিবর্তন আনতে পারে  জাতিসংঘ যখন ব্যয় সংকোচন, ম্যান্ডেট পুনর্বিন্যাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা পুনর্গঠনের কঠিন পথে হাঁটছে, তখন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সামনে বিরল সুযোগ। তবে এই দায়িত্ব জাতীয় গৌরবের চেয়ে বেশি কিছু: এটি নিরপেক্ষতা, বাস্তব ফল এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠকে কার্যকর নেতৃত্বে রূপ দেওয়ার পরীক্ষা।  জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে বহু বছর ধরেই কথা হচ্ছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা। প্রতিষ্ঠানটি কেবল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি নয়; তার অর্থভিত্তি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত বাড়ছে, মানবিক চাহিদা বিস্তৃত হচ্ছে এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা কমছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ব্যবস্থার সম্পদভিত্তি প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।  এই প্রেক্ষাপটে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ইউএন৮০ উদ্যোগকে শুধু প্রশাসনিক আধুনিকায়নের প্রকল্প হিসেবে দেখা ভুল হবে।

এটি আসলে নির্ধারণ করবে, জাতিসংঘ ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রতিষ্ঠান হবে: ছোট কিন্তু দুর্বল, নাকি সংহত, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর।  ২৬ মে প্রকাশিত ইউএন৮০ অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্যোগটি এখন একটি “সিদ্ধান্তমূলক পর্যায়ে” প্রবেশ করেছে। কিছু প্রস্তাব সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত বা প্রায় প্রস্তুত; অন্যগুলোতে আরও নকশা, আলোচনা ও রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ মহাসচিবের কার্যালয় প্রস্তাব সাজাতে পারে, কিন্তু সংস্কারের রাজনৈতিক মালিকানা শেষ পর্যন্ত সদস্যরাষ্ট্রগুলোকেই নিতে হবে।  এই সময়েই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২ জুন গোপন ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পান; সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পান ৯১ ভোট। তাঁর এক বছরের মেয়াদ শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর।  এটি বাংলাদেশের জন্য বিরল কূটনৈতিক অর্জন। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়টি।

ইউএন৮০ সংস্কারের বিতর্ক, অর্থায়নের সংকট, নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান বিভাজনের মধ্যে তিনি সাধারণ পরিষদের নেতৃত্ব নেবেন।  তাঁর ঘোষিত প্রতিপাদ্য, “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All”, বা আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ। মহাসচিব গুতেরেস এটিকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার জন্য সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।  কিন্তু প্রতিপাদ্যের সৌন্দর্য নয়, এর বাস্তব অর্থই এখন গুরুত্বপূর্ণ।  সভাপতি নির্বাচিত, কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিনিধি নন  এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য পরিষ্কার রাখা দরকার। সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি কোনো দেশের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার সরাসরি মঞ্চ নয়। নির্বাচিত হওয়ার পর সভাপতিকে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতি নিরপেক্ষ থাকতে হয়। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেও সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে সমগ্র পরিষদের আস্থা রক্ষা করতে হবে।

 তাঁর হাতে নিরাপত্তা পরিষদের মতো বাধ্যতামূলক ক্ষমতা নেই। তিনি কোনো রাষ্ট্রকে সংস্কার মেনে চলতে বাধ্য করতে পারবেন না। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব অবহেলার মতো নয়।  তিনি আলোচ্যসূচি পরিচালনা করতে পারেন, উচ্চপর্যায়ের সভা আহ্বান করতে পারেন, বিরোধী অবস্থানের মধ্যে সেতু গড়তে পারেন এবং কোন প্রশ্নগুলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাবে, তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতির সবচেয়ে বড় সম্পদ নির্বাহী ক্ষমতা নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা।  খলিলুর রহমানের জন্য প্রথম পরীক্ষা তাই হবে, তিনি কি বাংলাদেশের অর্জনের প্রতীক হয়ে থাকবেন, নাকি বিভক্ত সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হতে পারবেন।  ইউএন৮০-এর তিনটি কঠিন প্রশ্ন  ইউএন৮০ উদ্যোগ মূলত তিনটি ধারায় এগোচ্ছে: অভ্যন্তরীণ দক্ষতা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সদস্যরাষ্ট্রের দেওয়া ম্যান্ডেটগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা এবং জাতিসংঘের কাঠামো ও কর্মসূচির পুনর্বিন্যাস। উদ্যোগটির লক্ষ্য শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের তিনটি স্তম্ভে আরও সমন্বিত ও ফলপ্রসূ ব্যবস্থা তৈরি করা।

 এই তিনটি ধারাই প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে প্রতিটিই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর।  প্রথম প্রশ্ন, দক্ষতা বলতে কী বোঝানো হবে?  কত পদ কমল, কত দপ্তর একীভূত হলো কিংবা কত ডলার বাঁচল, তা সহজে পরিমাপ করা যায়। কিন্তু সেবা দ্রুত হলো কি না, মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি শক্তিশালী হলো কি না, কিংবা সংকটে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ল কি না, তা মাপা অনেক কঠিন।  শুধু ব্যয় কমানোর সংস্কার জাতিসংঘকে ছোট করতে পারে, কার্যকর নয়।  দ্বিতীয় প্রশ্ন, কোন ম্যান্ডেট থাকবে, কোনটি বাদ যাবে?  জাতিসংঘে বহু ম্যান্ডেট বছরের পর বছর নবায়ন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি রয়েছে, কিছু দায়িত্ব পর্যাপ্ত অর্থ ছাড়াই বহাল আছে। পর্যালোচনা তাই দরকার। তবে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল বা কম দৃশ্যমান জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করা ম্যান্ডেটগুলোই প্রথমে সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।  তৃতীয় প্রশ্ন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোথায় থাকবে?  কম ব্যয়ের শহরে দপ্তর স্থানান্তর অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।

কিন্তু বৈশ্বিক দক্ষিণকে যদি শুধু প্রশাসনিক কাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আর নীতি, বাজেট ও নেতৃত্ব নিউইয়র্ক, জেনেভা বা অন্য ঐতিহ্যগত কেন্দ্রে থাকে, তবে সেটি প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নয়।  এই তিনটি প্রশ্নে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের কণ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।  বৈশ্বিক দক্ষিণের পক্ষে, কিন্তু পক্ষপাতহীনভাবে  বাংলাদেশসহ বহু উন্নয়নশীল দেশ জাতিসংঘের উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা, জলবায়ু কার্যক্রম এবং নীতিগত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ফলে তারা সংস্কার চায়, কিন্তু এমন সংস্কার নয় যা মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।  খলিলুর রহমানের সামনে সূক্ষ্ম ভারসাম্য থাকবে। তিনি বৈশ্বিক দক্ষিণের উদ্বেগকে আলোচনায় স্থান দিতে পারেন, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক মুখপাত্র হয়ে উঠতে পারবেন না।  তিনি যা করতে পারেন, তা হলো অংশগ্রহণের বৈষম্য কমানো।

 স্বল্পোন্নত দেশ, ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, সংঘাতপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য পৃথক পরামর্শব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। সংস্কার আলোচনায় সাধারণত যেসব রাষ্ট্রের বড় প্রতিনিধি দল, গবেষণা সহায়তা ও কূটনৈতিক সম্পদ রয়েছে, তারাই প্রভাব বিস্তার করে। ছোট দেশগুলো ভোট দিতে পারে, কিন্তু প্রস্তাবের ভাষা তৈরিতে সমান ভূমিকা রাখতে পারে না।  ‘সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’ বলতে এই কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলাও বোঝাতে হবে।  ম্যান্ডেট পর্যালোচনায় একটি সুরক্ষা পরীক্ষা  ইউএন৮০-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত অংশগুলোর একটি হলো ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন পর্যালোচনা। সাধারণ পরিষদ ইতিমধ্যে ম্যান্ডেট সৃষ্টি, বাস্তবায়ন এবং পর্যালোচনা আরও দক্ষ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।  এখানে খলিলুর রহমান একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী নীতি সামনে আনতে পারেন: কোনো ম্যান্ডেট বাদ দেওয়া বা একীভূত করার আগে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

 প্রথমত, ম্যান্ডেটটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রয়োজন পূরণ করছে কি না।  দ্বিতীয়ত, অন্য কোনো সংস্থার সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি রয়েছে কি না।  তৃতীয়ত, ম্যান্ডেটটি সংকুচিত করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা।  শেষ প্রশ্নটিই প্রায়ই বাদ পড়ে। মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা, শ্রম অধিকার, প্রতিবন্ধিতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বা তথ্যপ্রাপ্তির মতো বিষয় তাৎক্ষণিক আর্থিক ফল দেখায় না। কিন্তু এগুলোই জাতিসংঘের সর্বজনীনতার পরীক্ষা।  সাশ্রয় যদি প্রান্তিক মানুষের অধিকার দুর্বল করে, তবে সেটি দক্ষতা নয়, দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া।  অর্থায়নের সংকটকে প্রশাসনিক সমস্যা বলা যাবে না  জাতিসংঘের আর্থিক সংকট নিয়ে আলোচনা প্রায়ই এমনভাবে করা হয়, যেন এর মূল কারণ শুধু আমলাতান্ত্রিক অপচয়। বাস্তবতা আরও জটিল।

 সদস্যরাষ্ট্রের বকেয়া চাঁদা, দাতাদের নির্দিষ্ট প্রকল্পে অর্থ বেঁধে দেওয়ার প্রবণতা এবং অনিশ্চিত অনুদান জাতিসংঘের কাজকে খণ্ডিত করে। প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত, নমনীয় ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থ না দিয়ে শুধু কর্মদক্ষতা দাবি করা যুক্তিসংগত নয়।  খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির মঞ্চ ব্যবহার করে অর্থায়ন নিয়ে একটি সৎ রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করতে পারেন। সময়মতো বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান, নমনীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন ও মানবাধিকার কর্মসূচিকে স্বল্পমেয়াদি দাতানির্ভরতা থেকে রক্ষা করার প্রশ্ন সামনে আনা প্রয়োজন।  তবে বাংলাদেশের জন্যও এখানে আত্মসমালোচনার জায়গা আছে। অন্য রাষ্ট্রের কাছে আর্থিক দায়িত্বশীলতা দাবি করতে হলে বাংলাদেশকেও নিজের চাঁদা, অঙ্গীকার এবং জাতিসংঘসংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি যথাসময়ে পূরণ করতে হবে।  নৈতিক নেতৃত্ব একমুখী দাবি নয়।  প্রযুক্তি দিয়ে কি জাতিসংঘকে বাঁচানো যাবে  ইউএন৮০ উদ্যোগে অভিন্ন প্রযুক্তি, তথ্যব্যবস্থা এবং যৌথ প্রশাসনিক প্ল্যাটফর্মকে দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি যুক্তিসংগত। খণ্ডিত সফটওয়্যার, পৃথক ডেটাবেস এবং পুনরাবৃত্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যয় বাড়ায়।

 কিন্তু ডিজিটাল একীকরণ নিজেই ঝুঁকিমুক্ত নয়।  একটি অভিন্ন ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তার প্রভাব আরও বড় হতে পারে। তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি, উন্মুক্ত মান এবং নির্দিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর নির্ভরতার প্রশ্নও রয়েছে।  জাতিসংঘ যদি ব্যয় কমানোর জন্য কয়েকটি বেসরকারি প্ল্যাটফর্মের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে কৌশলগত স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে।  বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কমিউনিটি যোগাযোগ এবং দুর্যোগকালীন তথ্যব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারে। তবে সেই অভিজ্ঞতা তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে, যখন দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিনীতি তথ্য সুরক্ষা, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারের মান পূরণ করবে।  দেশের ভেতরের বাস্তবতা আন্তর্জাতিক নেতৃত্বকে অনুসরণ করবে  খলিলুর রহমানের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য সম্মানের। কিন্তু আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব দেশের ভেতরের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না।  বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তি, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণের কথা বলে, তবে দেশের নীতিপ্রক্রিয়ায়ও সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে।

 ইউএন৮০ নিয়ে একটি জাতীয় বহুপক্ষীয় পরামর্শ আয়োজন করা যেতে পারে। এতে সরকার, জাতিসংঘের দেশীয় দল, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ, ব্যবসা, নারী ও যুব সংগঠন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকে যুক্ত করা উচিত।  বাংলাদেশের একটি প্রকাশ্য অবস্থানপত্র থাকা দরকার। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা যেতে পারে:  কোন সংস্কার বাংলাদেশ সমর্থন করে, কোন প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের পক্ষে কোন বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে চায়।  এতে সাধারণ পরিষদের সভাপতির নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হবে না। বরং বাংলাদেশের জাতীয় নীতির স্বচ্ছতা বাড়বে।  গৌরব নয়, ফলাফলই শেষ কথা  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এবং খলিলুর রহমান তার সভাপতিত্ব করবেন।  তার পরের এক বছর বাংলাদেশে তাঁকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই গর্ব থাকবে। কিন্তু জাতিসংঘের ইতিহাসে সভাপতিদের স্মরণ করা হয় জাতীয়তার কারণে নয়; সংকটের সময়ে তাঁরা কতটা আস্থা তৈরি করেছিলেন, তার ভিত্তিতে।  খলিলুর রহমানের সাফল্য মাপার কয়েকটি কঠিন মানদণ্ড থাকবে।

 তিনি কি সংস্কারকে ব্যয় সংকোচনের বাইরে নিয়ে যেতে পারবেন?  তিনি কি বড় শক্তি ও ছোট রাষ্ট্রের মধ্যে কার্যকর আলোচনার পরিবেশ তৈরি করবেন?  তিনি কি বৈশ্বিক দক্ষিণের অংশগ্রহণ বাড়াবেন, কিন্তু সভাপতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন?  তিনি কি সদস্যরাষ্ট্রকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন, যেখানে জাতিসংঘ কম খণ্ডিত হলেও তার মানবিক, উন্নয়ন ও অধিকারভিত্তিক দায়িত্ব দুর্বল হবে না?  ইউএন৮০ উদ্যোগে বাংলাদেশের সামনে তাই দুটি পথ।  একটি হলো নির্বাচনকে জাতীয় মর্যাদার গল্পে সীমাবদ্ধ রাখা।  অন্যটি হলো এই মুহূর্তকে ব্যবহার করে একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর খোঁজা: কীভাবে জাতিসংঘকে একই সঙ্গে সাশ্রয়ী, প্রতিনিধিত্বশীল এবং মানুষের কাছে কার্যকর করা যায়?  প্রথম পথটি সহজ। দ্বিতীয় পথটিই নেতৃত্ব।                                                                                    এ এইচ এম বজলুর রহমান ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর