মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত দিনশেষে যখন লেভিটটাউনের ঘরগুলোয় অন্ধকার নেমে এসেছে, তখন একটি ঘর পূর্ণিমার আলোয় ঝলমল করছিল। মানুষের কোলাহলে গমগম করছিল পুরো ঘর, আঙিনায় ছিল উৎসবের জমকালো আয়োজন, আর মাইকে ভেসে আসছিল শুদ্ধ উচ্চারণের সুপরিচিত কণ্ঠস্বর। মাছরাঙা টিভির জনপ্রিয় উপস্থাপক, বর্তমানে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা—আর পুরো আয়োজনটিই ছিল তাকে ঘিরে। ১৯ আগস্ট তার জন্মদিন। হ্যাঁ, তিনি মৃদুল আহমেদ, যিনি এ বছর পঞ্চাশে পদার্পণ করেছেন।
লেখক, শিল্পী ও স্বজনরা ফুল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। বিস্তৃত আঙিনায় কেউ বসেছিলেন চেয়ারে, কেউবা প্রসারিত সবুজ গাছের ছায়ায় পা এলিয়ে। মাইক হাতে মৃদুল আহমেদ একে একে সকল অতিথিকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন নানা বিশেষণ জুড়ে। দর্শক শুনলেন তাদের অনুভূতি। শুভেচ্ছাবাণীর সঙ্গে সঙ্গে সকলেই জানলেন মৃদুলের শৈশব-কৈশোর, শিল্প-সাহিত্যচর্চা, কর্মজীবন এবং দেশ ও মানুষকে নিয়ে তার ভাবনার কথা।
মৃদুল আহমেদ একজন জনপ্রিয় ছড়াকার ও লেখক, যিনি মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও কিশোর কবিতার রচনার জন্য পরিচিত। তিনি প্রযুক্তি, মহাকাশ, পরিবেশ ও সমাজসহ বিভিন্ন বাস্তব ও কাল্পনিক বিষয় নিয়ে লেখেন, যা তার লেখাকে বহুমাত্রিক জগতে পরিণত করেছে। রসবোধসম্পন্ন মৃদুল আহমেদ অত্যন্ত সাবলীলভাবে গদ্য, পদ্য ও নাটক রচনা করেন, যার মধ্যে একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে নিউইয়র্কে তার একক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রথমবারের মতো তার বহুমুখী সৃজনশীল প্রতিভা প্রত্যক্ষ করেন। একই অনুষ্ঠানে বোদ্ধারা তাকে সব্যসাচী লেখক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। লেখালেখি ছাড়াও তিনি একজন সাংবাদিক, আবৃত্তিশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সফল উপস্থাপক।
রকমারি খাবারের স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি চলছিল কথা, গান, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম, বিপার অন্যতম কর্ণধার এ্যানি ফেরদৌস, লেখক কুলদা রায়, আবৃত্তিশিল্পী মুমু আনসারী, ছড়াকার শামস চৌধুরী রুশো, লেখক লিজি রহমান, ছড়াকার মিনহাজ আহমেদ, সাংস্কৃতিককর্মী ডাক্তার মাকসুদ বাপ্পী, সাংস্কৃতিককর্মী আবদুর রহমান, কণ্ঠশিল্পী শারমিন আক্তার রেক্সোনা, কণ্ঠশিল্পী তাহমিনারা রহমান লাইজু, কণ্ঠশিল্পী কানিজ ফাতেমা, সাংস্কৃতিককর্মী কানিজ হুসনা আকবরী, সাংস্কৃতিককর্মী সাঈদ কামরুজ্জামান ফয়েজ এবং সাংস্কৃতিককর্মী সাব্বির হোসাইন প্রমুখ।
জন্মদিন উপলক্ষে সকলের উপস্থিতিতে দুটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী কেক কাটা হয়। একটি ছিল ‘শূন্য’-এর আদলে তৈরি, অন্যটি ছিল মৃদুল আহমদের বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে সজ্জিত। এত সুন্দর আয়োজন সম্পর্কে মৃদুল আহমেদকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এই অনন্য আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন তার প্রিয় পত্নী সাঈদা উদিতা ও শ্যালিকা মাকসুদা আজাদ মৌরি।
