পাকিস্তানকে হারিয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলেই অষ্টম স্থানে উঠে আসবে লাল-সবুজের দল। তবে সমীকরণটি মোটেও সহজ নয়। কিউইদের বিপক্ষে এই সিরিজটি জিততে হবে ৩-০ ব্যবধানে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা বাধ্যতামূলক। স্বভাবতই, ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ। সিরিজ জয় ও র‌্যাঙ্কিং নিয়ে মিরাজ বেশ আত্মবিশ্বাসী। দলের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো। সামনের লক্ষ্য নিয়ে এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি পয়েন্ট আমাদের জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ২০২৭ বিশ্বকাপে আমাদের কোয়ালিফাই করতে হবে। এজন্য প্রত্যেকটা সিরিজ, প্রত্যেকটা ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক জরুরি। আমরা ওভাবেই চিন্তা করবো যে, কীভাবে আমরা সিরিজ জিততে পারি, ম্যাচ জিততে পারি।’   সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সিরিজে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। সিরিজে খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে বোলাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সফরকারীরা। তবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১১ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে মিরাজের দল। এই সিরিজে পেসারদের কোনো বিশ্রাম দেয়া হয়নি। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান পুরো সিরিজ জুড়ে দারুণ বোলিং করেছেন। মিরপুরের চিরাচরিত ‘স্লো ও লো’ উইকেটের বদলে এবার খেলা হয়েছে স্পোর্টিং বা ‘ট্রু’ উইকেটে।

বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ভালো উইকেটে খেলে ব্যাটসম্যানদের হারানো আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই ছিল মূল লক্ষ্য। কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বোলাররা ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স করেছেন। বিশেষ করে তাসকিন ও নাহিদ রানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দিয়েছেন দলকে। প্রবল চাপের মুখেও দল নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারায়নি। মিরাজ নিজেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী ছিলেন। তার সঠিক নেতৃত্ব দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মিরাজ বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন। সর্বশেষ সিরিজে দারুণ পারফর্ম করার পরও সৌম্য সরকারকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলানো হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে অধিনায়কের পরিষ্কার দাবি, তারা ওপেনারদের থিতু হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে চেয়েছেন। তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজিয়েছে বাংলাদেশ দল। মিরাজের মতে, কোনো প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে মাত্র দুই-এক ম্যাচ দেখেই বিচার করা যৌক্তিক নয়। সুযোগ পেলে তা তাকে টানা দেয়া উচিত।

সৌম্যের সাম্প্রতিক ঘরোয়া লীগ পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো ছিল না। তাই তাকে একাদশের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে সৌম্যও পর্যাপ্ত সময় পাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। একই সঙ্গে দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের মাঠে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দলের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আগামী ১৩ই এপ্রিল তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। ১৭, ২০ ও ২৩শে এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এই হোম সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বড় একটি সুযোগ। আইপিএলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ চলায় নিউজিল্যান্ডের মূল দলের অনেক তারকা এই সফরে থাকছেন না। মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস কিংবা লকি ফার্গুসনদের মতো সেরা ক্রিকেটাররা আইপিএলে বেশ ব্যস্ত থাকবেন। তাই তুলনামূলক খর্বশক্তির কিউই দলকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করার দারুণ একটি সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। এই সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কঠিন পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। মিরাজদের এখন প্রধান কাজ হলো নিজেদের সেরা খেলাটা মাঠে সঠিকভাবে প্রমাণ করা। পাকিস্তান সিরিজের ছোট ভুলগুলো শুধরে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে। ঘরের মাঠের চেনা কন্ডিশনে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়ের সুযোগ মিরাজদের।