এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :  

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান বিন হাদী গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন। হাদির আত্মার মাগফেরাক কামনা করি। জুলাই আন্দোলনে আমরা আমাদের যে সকল ভাইদের হারিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছে তারা এ প্রজন্মের সদস্য ছিলেন। এ যুগের অন্যতম আবিস্কার, একটি পপুলার মাধ্যম হচ্ছে আইটি। যেটিকে ইন্টারনেট বলি আমরা। স্বাভাবিকভাবে এই ইন্টারনেটের সাথে আমাদের তরুণ প্রজন্মের এখন নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এই ইন্টারনেটের ব্যয়বহুল খরচ আছে, যা সবার জন্য এফোর্ট করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। আবার একি ভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের বহু সদস্য সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তারা র্কসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। ইন্টারনেটের সাথ নারী ও পুরুষ সকলেই সংযুক্ত, তবে তরুণ সদস্যর মাঝে ব্যবহার বেশি। বহু সদস্য পড়ালেখার জন্য ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে থাকে। বগুড়া শহরের ২০টি জায়গাতে আমরা ডিজিটার স্তম্ভ তৈরী করেছি। এই ডিজিটার স্তম্ভ দিয়ে ইন্টানেটের সুবিধাটা যাদের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টকর তাদের জন্য আমরা এই ব্যবস্থাটা করতে চাইছি। আমাদের আগামী দিনের যে লক্ষ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মানুষের সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা ইন্টারনেট সেবাটাকে আরো ইজি করে আনতে চায় তরুণ প্রজন্মের মানুষের জন্য। আজিজুল হক কলেজে যে কানেকশন দেওয়া হয়েছে এটি ফ্রি-কানেকশন। এটিতে লগিন করার জন্য কয়েকটি অপশন থাকবে সেগুলো পুরণ করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। যেকোন সদস্য এক থেকে দেড়ঘন্ট ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। তার পর ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। আবারও নতুন করে লগিন করে ব্যবহার করতে পাবরে তার জন্য কোন টাকা দিতে হবে না। বিএনপি সরকারে গেলে এই সুবিধা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হবে।

তারেক রহমান আরো বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে ৩১দফা আছে যেটি আমরা আড়াই বছর আগে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। তার ভিতরে অনেক বিষয় আছে সাংবিধানিক, আইনগত, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের স্বাস্থ্য চিকিৎসা, নারীদের সক্ষমতা সকল কিছু আছে। ৩১দফা সব সময় মনে রাখা সম্ভব হয় না। সেটিকে ছোট করে নিয়ে এসে কয়েকটি বিষয় উপস্থাপন করেছি। যেমন একটি পপুলার বিষয় নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড গ্রামের অসহায় কৃষকদেরকাছে দিতে চাই। আগামীর প্রজন্মের জন্য ধীরে ধীরে সুন্দার ভাবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেরুদন্ড মজবুত করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শক্তিশালী হবে। বিগত স্বৈরচারী সময় আমরা দেখেছি প্রত্যেকটা সেক্টর ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। ঠিক আছে তারা ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার আবারও গড়ে তুলবে।

 মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ জাতে চিকিৎসা সুবিধা পায় সেটির জন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। যারা গ্রামে গ্রামে দিয়ে মানুষদের চিকিৎসা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে বিএনপি আবারও সেই কাজ করবে। পরিকল্পনা হিসাবে ১লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিযোগ করতে চাই। সেখানে নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি অগ্রঅধিকার পাবে। স্বৈচারের আমলে জনগনের অর্থ তসরুপ করার জন্য ডিজিটার পার্ক তৈরী করেছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সেগুলো কাজ হয় না, বন্ধ হয়ে আছে। কিছু জায়গাতে কমিউনিটি সেন্টার করেছে। নির্বাচন বানচাল করতে একটি গোষ্ঠি নানা ষড়যন্ত্র করছে, সবাইকে সজাক থাকতে হবে। মূলকথা একটায় করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, ১৯৭১ থেকে ২৪পর্যন্ত আমাদের দেশের বহুমানুষ বিভিন্ন সময়ে শহীদ হয়েছে।

অনেকে পঙ্গুবরণ করেছে, নির্যাচিত হয়েছে।  স্বৈরচার মুক্ত হয়েছে দেশকে গড়তে হবে। শহিদ জিয়াউর রহমান এ জেলা মানুষ, আপনাদের সন্তান। দেশ স্বাধীনের পর সবাই আশা করেছিলো দেশটি সামনে দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমরা সর্ম্পন ভিন্নচিত্র দেখেছি। বটমলেস বাস্কেটে পরিনত হয়েছিল দেশ। পরবর্তীতে যখন শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে সে সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশকে খাদ্য রফতানীর দেশে পরিণত করছিলেন।  আমরা এখন গর্ব করি গামেন্ট শিল্প নিয়ে এটি শহীদ জিয়া করেছেন। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে, বেকারদের কর্মস্থানের সমস্য দূর করতে  হবে।  তিনি ২১ডিসেম্বর বিকালে বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনে সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারাপার্ননের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র এড. মাহবুবুর রহমান, সাবেক এমপি মো: হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির প্রযুক্তি সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, আলী আজগার তালুকদার হেনা,সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, সাবেক এমপি গোলাম মো: সিরাজ, জয়নাল আবেদীন চান। এতে উপস্থি ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন,হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, মাফতুন আহমেদ খান রুবেণ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উন নবী সালাম, কেএম খায়রুল বাশা, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাতক আবু হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবদলের সভাপতি সরকার মুকুল, সান্ধান, সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম শুভ, জেলা ছাত্রদলের সবাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ প্রমুখ।