এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :

 ​উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়াকে একটি আধুনিক ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন সরকারের কাছে ৩০ দফা দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে জেলাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে। ​১. প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ​বগুড়াবাসীর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দ্রুত বগুড়া সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন। যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিকায়নে সাতমাথায় ফুট ওভারব্রিজ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ফ্লাইওভার এবং উপজেলার সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ এবং বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেলপথ দ্রুত শেষ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। ​২. শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ​শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসারে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং প্রতিটি উপজেলায় সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ​অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বগুড়া ইপিজেড ও কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে। ​৩. স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন ​স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের আধুনিকায়নসহ জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের দাবি করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ​৪. ক্রীড়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ​বগুড়া বিমানবন্দরকে দ্রুত চালু করে এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুর পর্যন্ত যমুনার ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দাবি তোলা হয়েছে।

খেলাধুলায় প্রাণ ফেরাতে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন এবং জেলায় একটি বিকেএসপি (BKSP) আঞ্চলিক কেন্দ্র ও প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ​৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও সুশাসন ​নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অসহায় প্রবীণদের জন্য সরকারি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের মানবিক আবেদনও রয়েছে এই তালিকায়। ​এক নজরে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি: ​যমুনা নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ। ​হাই-টেক সিটি পার্ক ও সরকারি ক্যাডেট কলেজ নির্মাণ। ​বন্ধ হয়ে যাওয়া বগুড়া বেতার কেন্দ্র পুনরায় চালু করা। ​প্রতিটি উপজেলায় সুলভ মূল্যে সরকারি বাস সার্ভিস চালু। বগুড়াবাসীর মতে, এই ৩০টি দাবি পূরণ হলে কেবল উত্তরবঙ্গ নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিতে বগুড়া এক নতুন মেরু হিসেবে আবির্ভূত হবে। নতুন সরকার এই দাবিসমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই এখন জেলাবাসীর প্রত্যাশা।