এক ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে স্ত্রীকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে ৷ কিন্তু, স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে এসে বাংলাদেশি ওই ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ ৷ নিখোঁজ ব্যক্তির নাম সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহী (৩২) ৷ তিনি বাংলাদেশের সিলেট জেলার বাসিন্দা ৷ ১১ মার্চ বুধবার থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না-বলে অভিযোগ ৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন জোহীর স্ত্রী এবং গোটা পরিবার ৷ তাঁর বাবা হলেন বাংলাদেশের 'অপরাজেয় বাংলা'র স্থপতি সয়েদ আব্দুল্লাহ খালেদ।  পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহী তাঁর স্ত্রী মাসরুফা তাসনিমকে নিয়ে কয়েকদিন আগে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন ৷ মূলত স্ত্রী’র শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে বিধাননগরের বাগুইআটির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছিলেন ৷ সেই হাসপাতালে চিকিৎসা শুরুও করেছিলেন তাঁরা ৷ বাগুইআটির একটি হোটেলে থাকছিলেন তাঁরা ৷ পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার হঠাৎই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহী ৷ জানা গেছে, ওইদিন তিনি যে হোটেলে থাকছিলেন, সেখানকার ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে নামেন ৷ তারপর বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও তিনি ফিরে না-আসায়, তাঁর স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং স্বামীর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন ৷  অনেকক্ষণ ধরে ফোনে রিং হওয়ার পর এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি মহিলার ফোন ধরেন ৷ জোহীর স্ত্রী তখন জানতে চান, কে ফোনটি ধরেছেন ? জবাবে ফোনের উলটো দিকে থাকা ব্যক্তি জানান তিনি পেশায় সবজি বিক্রেতা ৷ তিনি জানান, অনেকক্ষণ ধরে একটি মোটরসাইকেলের ওপর ফোনটি পড়ে ছিল এবং ফোনে বারবার কল আসছিল ৷ সেই কারণে তিনি ফোনটি ধরেন এবং মালিককে এসে ফোনটি নিয়ে যেতে বলেন । পরে নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সবজি বিক্রেতার কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার করেন ৷ তবে, সেখানে তাঁর স্বামীর কোনও খোঁজ পাননি মহিলা ৷  পরিবারের দাবি, পরশুদিন থেকে আর কোনওভাবেই সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না ৷ ঘটনার পরেই বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিখোঁজ বাংলাদেশি ব্যক্তির স্ত্রী মাসরুফা তাসনিম ৷ জানা গিয়েছে, তাঁদের এক আত্মীয় রিপন মণ্ডল বর্তমানে কলকাতায় থাকেন ৷ তিনিই জোহী এবং মাসরুফার ভারতে আসার ব্যবস্থা করেছিলেন ৷   রিপন পুলিশকে জানিয়েছেন, 12 মার্চ বৃহস্পতিবার তাঁদের কাছে একটি ফোন আসে ৷ উলটো দিক থেকে বলা হয়, তাঁরা বর্ধমানে জোহীকে খুঁজে পেয়েছেন ৷ তাঁদেরকে 2 হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলে জোহীকে শিয়ালদা স্টেশনে নিয়ে আসবেন ৷ ওই ব্যক্তির কথা সন্দেহজনক হওয়ায় দ্রুত বিষয়টি বাগুইআটি থানায় জানান রিপন এবং মাসরুফা ৷ পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে সেটি ভুয়ো কল ছিল ৷  এ দিন ইটিভি ভারতের তরফে রিপন মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ৷ তিনি বলেন, "ওঁরা কলকাতায় এসে চিকিৎসা করাবেন তার যাবতীয় বিষয়ের ব্যবস্থা আমি নিজেই করে দিয়েছিলাম ৷ হঠাৎ করে রহস্যজনকভাবে তিনি কোথায় গেলেন, সেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে আছি ৷

আমরা লাগাতার বাগুইআটি থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং পুলিশকর্মীরাও আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করছে ৷"  তিনি আরও বলেন, "কিছুদিন আগেই সোনা গিয়েছিল ওঁকে (জোহী) বর্ধমানে পাওয়া গিয়েছে ৷ আর তাঁকে যারা উদ্ধার করেছেন, তাঁরা সুরক্ষিতভাবে কলকাতায় আনার জন্য আমাদের কাছে 2000 টাকা দাবি করেছিল ৷ তবে এই বিষয়টি আমার সন্দেহ হয় ৷ তাই আমি ওঁর পরিবারকে নিয়ে বাগুইআটি থানার আধিকারিকদের জানাই ৷ তাঁরা সবরকম তথ্য তালাশ করে জানতে পারেন, বিষয়টি একেবারে ভুয়ো ৷ হয়তো কেউ আমাদের সমস্যার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করতে চেয়েছিল ৷"  এই বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিধাননগর কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, "আমরা লাগাতার ওই ব্যক্তির খোঁজ চালানোর চেষ্টা করছি ৷ খোঁজ পাওয়া গেলেই আমরা তা জানিয়ে দেব ৷"