খড়কুটোর ঋতু

নন্দিনী লুইজা

 

কিছু নদী থাকে,সমুদ্রের ঠিকানা জেনেও

মরুভূমির দিকে বয়ে যায়।

কিছু ফুল থাকে,দেবতার চরণে অর্ঘ্যের মতো

নিবেদিত হয়েও পাথরের বেদিতে শুকিয়ে থাকে। একটি বিশ্বাস- ধূপের ধোঁয়ার মতো,
ধীরে ধীরে হালকা হয় অদৃশ্য কোনো বেদিমূলে।

 

ভালোবাসারও এক গোপন ব্যাকরণ আছে,

যেখানে অধিকারের চেয়ে-

অপেক্ষার উচ্চারণ দীর্ঘতর,

আর ক্ষমাই হয়ে ওঠে, সবচেয়ে নিঃশব্দ ভাষা।

সংসারের দেয়ালে রঙিন আলপনা ঝুলে থাকে,

ঘরের প্রতিটি জানালায়, আলোর অনুশীলন,
অথচ অন্তঃপুরে অন্ধকারের শিকড় আরও গভীর; ভেতরের ঘরে ধুলোর স্তরে চাপা পড়ে যায় অসংখ্য বসন্ত।

বাইরের পৃথিবী সুখের প্রতিকৃতি এঁকে রাখে,
কেবল নিশীথের বাতাস জানে
কত পাতা ঝরে গেলে-
একটি বৃক্ষ এখনও সবুজ দেখায়।

তারপর একদিন দীর্ঘ হয় ঋতু-জল থাকে,তৃষ্ণা পায়;
একই আকাশের নিচে দুই ভিন্ন ঋতুর আগমন;

মধ্যরাত জানে-কতগুলো নক্ষত্র আলো ছাড়াই পুড়ে গেছে।

কোনো অলৌকিক আয়োজন নয়,
শুধু ক্লান্ত নদীর ধার ঘেঁষে-
ভেসে আসে এক টুকরো খড়।

ডুবন্ত জলরাশি,খড়কুটোর ওজন মাপে না;
শুধু টিকে থাকার সম্ভাবনাটুকু
তীরের সমান হয়ে উঠে। 

হয়তো সেই খড়কুটোরই অন্য নাম-
পুনর্জন্ম নয়,বেঁচে থাকার অবশিষ্ট আলো।

বয়স তখন-
আয়নার রূপালি ধুলোর ভেতর
নিঃশব্দে ঘুমিয়ে থাকে;
জেগে থাকে শুধু,অম্লান এক সবুজের স্মৃতি।

সমস্ত সম্পর্কের নাম,প্রেম নয়-

কিছু সম্পর্ক-সৃষ্টিকর্তার নীরব আশীর্বাদ,

যেখানে স্পর্শেরও প্রয়োজন হয় না,

শুধু থেকে যাওয়াটুকুই

জীবনের দীর্ঘতম কবিতা।