সম্প্রতি কিউবার গবেষক এডুয়ার্ডো রেগালাদো ফ্লোরিদো স্পেনের একটি চীন নীতি পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইটে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। “চীনের ‘সঠিক প্রশাসনিক কার্যকারিতা দৃষ্টিভঙ্গি’: তত্ত্ব, বাস্তব প্রয়োগ এবং লাতিন আমেরিকার জন্য এর তাৎপর্য” শিরোনামে প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ‘সঠিক প্রশাসনিক কার্যকারিতা দৃষ্টিভঙ্গি’ গঠন ও অনুসরণে গুরুত্ব দেয়, যার লক্ষ্য—দেশ পরিচালনা ও প্রশাসনকে জনগণের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা, বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে চলা এবং টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা।
এই ধারণা যে শুধু চীনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে তা নয়, বরং বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার জন্য একটি আলোকবর্তিকা হিসেবেও কাজ করছে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘সঠিক প্রশাসনিক কার্যকারিতা দৃষ্টিভঙ্গি’র মাধ্যমে চীনে জনকল্যাণ, সামাজিক সেবা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি সরকারি বিনিয়োগে বেশি উৎসাহ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে চিকিৎসা, শিক্ষা ও আবাসনসহ সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চীনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যেও এই দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত আছে, যাতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গড়ে উঠতে পারে।
প্রবন্ধে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীন এই ‘সঠিক প্রশাসনিক কার্যকারিতা দৃষ্টিভঙ্গি’ অনুসরণ করে। এটি বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
চীন সবসময় এই অবস্থান বজায় রাখে যে, সহযোগিতাকে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখেই হতে হবে। এ ছাড়া সহযোগিতা হবে প্রতিটি দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার ভিত্তিতে।
চীন কোনও রাজনৈতিক শর্ত আরোপ বা বাইরের কোনও চাপ চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করে। একই নীতি দেশীয় প্রশাসন ও কূটনীতিতেও অনুসরণ করা হয়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, চীনের এই ‘সঠিক প্রশাসনিক কার্যকারিতা দৃষ্টিভঙ্গি’ এবং এর সফল বাস্তবায়ন বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। এটি এমন এক চিন্তাধারা দেখায় যা ‘জনকেন্দ্রিক এবং নিজ দেশের বাস্তব পরিস্থিতিকে সম্মান করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং টেকসই ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করে।’
লাতিন আমেরিকার দেশগুলো এবং চীন সমতার ভিত্তিতে সংলাপের মাধ্যমে এই ধারণার স্থানীয় বাস্তবায়ন ও অভিযোজনকে উৎসাহিত করতে পারে এবং একসাথে আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
সূত্র:শিশির-ফয়সল-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
